ইবরাহীম ওবায়েদ
কথাসাহিত্যিক
ইবরাহীম ওবায়েদ — লেখার ঘর
কথাসাহিত্যিক

ইবরাহীম ওবায়েদ

২১টি প্রকাশিত উপন্যাস

বাংলা সাহিত্যের একজন দীন সেবক হিসেবে এটাই তাঁর তৃপ্তি এবং সার্থকতা

নিচে যান
লেখক পরিচিতি

পরিচিতি

ইবরাহীম ওবায়েদ

ইবরাহীম ওবায়েদ

জন্ম: ২৯ আগস্ট ১৯৯৩ · পুরনো ঢাকা, আবদুল হামিদ লেন

কথাসাহিত্যিক ইবরাহীম ওবায়েদ-এর জন্ম বিশ শতকের শেষ দশকে পুরনো ঢাকার আবদুল হামিদ লেনে। তার ছেলেবেলা কেটেছে পুরনো ঢাকায়। সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন।

ঢাকা শহরের আয়তন এখন অনেক বেড়েছে। কিন্তু ইতিহাসে মূলত এই পুরনো ঢাকাকেই বলা হয় বায়ান্ন বাজার তেপান্ন গলির শহর। প্রাচ্যের রহস্য নগরী। যার প্রতিটি ধূলিকণায় বৈচিত্র্য ছড়িয়ে আছে। এখানকার মানুষের ভাষা এবং জীবনধারা তাঁকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে।

তিনি ঘুরতে ভালোবাসেন। প্রাণীদের মধ্যে বিড়াল তাঁর খুব প্রিয়। প্রকৃতি, পাহাড় এবং সমুদ্র তাঁকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। তিনি জগতটাকে যেভাবে দেখেন এবং অনুভব করেন সেটাই লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।

২১ প্রকাশিত বই
২১ উপন্যাস
১৯৯৩ জন্মসাল
প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ

বইসমূহ

২১টি প্রকাশিত উপন্যাস

সন্ধ্যার মেঘমালা
সন্ধ্যার মেঘমালা
০১
মেঘের আড়ালে
মেঘের আড়ালে
০২
স্বর্গের নর্তকী
স্বর্গের নর্তকী
০৩
দূর সুদূরে
দূর সুদূরে
০৪
বসন্ত বাতাসে
বসন্ত বাতাসে
০৫
উদাস হাওয়া
উদাস হাওয়া
০৬
হেমন্তের রোদ
হেমন্তের রোদ
০৭
অন্ধকার দিন
অন্ধকার দিন
০৮
ঘোর
ঘোর
০৯
আঁচড়
আঁচড়
১০
অচিন সৌরভ
অচিন সৌরভ
১১
বেলা যায়
বেলা যায়
১২
দিগন্ত ছুঁয়ে
দিগন্ত ছুঁয়ে
১৩
অনন্তের ঢেউ
অনন্তের ঢেউ
১৪
ভাঙন
ভাঙন
১৫
অলস দুপুর
অলস দুপুর
১৬
দুই প্রহর
দুই প্রহর
১৭
আশ্চর্য সিন্দুক
আশ্চর্য সিন্দুক
১৮
দিন দুপুর
দিন দুপুর
১৯
নিঝুম রজনী
নিঝুম রজনী
২০
ট্রেন
ট্রেন
২১
সাহিত্যকর্ম

লেখনী

তখন মধ্যদুপুর। একটা ফোনকল আমার স্বাভাবিক গতিতে চলা জীবনকে হঠাৎ তছনছ করে দিলো। ত্রিশ বছর, দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর আবার সে এভাবে ফিরে আসবে ভাবতে পারিনি। বান্ধবী নূপুর যখন ফোন করে বললো, 'সে তোর সঙ্গে কথা বলতে চায়, তুই কি কথা বলবি?' তখন নূপুরকে 'না' বলতে পারিনি। নিজের অজান্তে অবলীলায় বলে দিয়েছি, 'কেন কথা বলবো না? ত্রিশ বছর আগে কথা বলিনি বলে এখনো বলবো না? ওকে ফোন করতে বলিস।'

এখন মনে হচ্ছে কাজটা ঠিক হয়নি। ত্রিশ বছর আগে যে হারিয়ে গেছে সে আবার ফিরে আসবে কেন? আমিই বা কেন তাকে প্রশ্রয় দেবো? অথচ আমার মন তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমি জানি এটা ঠিক না, কিন্তু মন তা মানছে না। হৃদয়ের আয়নায় ত্রিশ বছর আগের সুপ্ত স্মৃতির বারুদ ঝলসে উঠেছে। ত্রিশ বছর পরেও আমি যেন তার সেই উষ্ণ নিঃশ্বাস টের পাচ্ছি!

— উপন্যাস থেকে

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। সে বসে আছে নারিন্দার ভূতের গলির শ্যাওলা ধরা একটা বাড়ির চিলেকোঠায়। তার নাম শান্ত। নামের মতো তার স্বভাবও শান্ত। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। মাথায় কোঁকড়ানো বাবরি চুল। চোখে ভারী ফ্রেমের চশমা। দৃষ্টি প্রখর। পরনে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি আর জিন্সের প্যান্ট।

সে খুব কম কথা বলে। তার ঠোঁটে ফুটে আছে নীরবতার স্বাক্ষর। সে খুব একটা হাসে না। কখনো হাসলে মুচকি হাসে। দাঁত দেখা যায় না। বেশিরভাগ মানুষের হাসিকান্না সরব। শান্তর হাসি এবং কান্না দুটোই নীরব।

— উপন্যাস থেকে
পিঞ্জর ভেঙে উড়ে চলি
আমি এক ডানাহীন পাখি,
বুকের ভেতর আকাশ ভরা
নিঃসঙ্গতা পুষে রাখি।
আমার বুকে তুমি থাকো
তোমার বুকে আমি,
আমরা দু'জন চুপটি করে
বুকের ভেতর নামি।
চোখে চোখ রাখলেই
চোখ কেন কথা কয়,
সব দুঃখ ছুঁয়ে সে
নিদ্রাতেও জেগে রয়?
তুমি কেন সুখপাখি
একা উড়ো খাঁচাহীন,
আমি কেন রাতপাখি
থাকি আজও ডানাহীন?
সাগরের জল ছুঁয়ে
তুমি হলে গাঙচিল,
আমি কেন নির্ঘুম
বেদনার বিষে নীল?
চোখে চোখ রাখলেই
সুখ কেন উপহাসে,
তুমি হও রানি রাজ
আমি হারি পানতাসে!
চোখে চোখ রাখলেই
তুমি কেন বুলবুল,
ছিলো তবে এই কি
জীবনের সব ভুল?
রক্ত শপথ
তোমার মাথায় লাগলো বুলেট বিঁধলো আমার বুকে,
রক্ত শিরায় জ্বলছে আগুন বিপ্লব কে রুখে!
লক্ষ মরণ আসুক বন্ধু যুদ্ধ ঝঞ্ঝা যত,
শত্রুর কাছে করবো নাকো আমরা মাথা নত।
শহীদ ভাইয়ের রক্তে ভিজে বাজলো বীণায় সুর,
বীর হাদিদের দৃপ্ত ত্যাগে আসলো নতুন ভোর।
জনতার মুখে আজাদির গান শত্রুরা যদি আসে,
আমরা তাদের করবো বিনাশ ভীষণ সর্বনাশে।
বুলেট দিয়ে কণ্ঠ রোধের দিন হয়েছে শেষ,
রক্ত শপথে জেগেছে আবার নতুন বাংলাদেশ!
ভাঙের তালা, ভাঙের আগল, ভাঙের কারাগার,
আকাশ ফুঁড়ে আরশ কাঁপাক, শহীদের চিৎকার।
ভাবনার খণ্ডচিত্র

কথামালা