২১টি প্রকাশিত উপন্যাস
বাংলা সাহিত্যের একজন দীন সেবক হিসেবে এটাই তাঁর তৃপ্তি এবং সার্থকতা
কথাসাহিত্যিক ইবরাহীম ওবায়েদ-এর জন্ম বিশ শতকের শেষ দশকে পুরনো ঢাকার আবদুল হামিদ লেনে। তার ছেলেবেলা কেটেছে পুরনো ঢাকায়। সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন।
ঢাকা শহরের আয়তন এখন অনেক বেড়েছে। কিন্তু ইতিহাসে মূলত এই পুরনো ঢাকাকেই বলা হয় বায়ান্ন বাজার তেপান্ন গলির শহর। প্রাচ্যের রহস্য নগরী। যার প্রতিটি ধূলিকণায় বৈচিত্র্য ছড়িয়ে আছে। এখানকার মানুষের ভাষা এবং জীবনধারা তাঁকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে।
তিনি ঘুরতে ভালোবাসেন। প্রাণীদের মধ্যে বিড়াল তাঁর খুব প্রিয়। প্রকৃতি, পাহাড় এবং সমুদ্র তাঁকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। তিনি জগতটাকে যেভাবে দেখেন এবং অনুভব করেন সেটাই লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।
২১টি প্রকাশিত উপন্যাস





















তখন মধ্যদুপুর। একটা ফোনকল আমার স্বাভাবিক গতিতে চলা জীবনকে হঠাৎ তছনছ করে দিলো। ত্রিশ বছর, দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর আবার সে এভাবে ফিরে আসবে ভাবতে পারিনি। বান্ধবী নূপুর যখন ফোন করে বললো, 'সে তোর সঙ্গে কথা বলতে চায়, তুই কি কথা বলবি?' তখন নূপুরকে 'না' বলতে পারিনি। নিজের অজান্তে অবলীলায় বলে দিয়েছি, 'কেন কথা বলবো না? ত্রিশ বছর আগে কথা বলিনি বলে এখনো বলবো না? ওকে ফোন করতে বলিস।'
এখন মনে হচ্ছে কাজটা ঠিক হয়নি। ত্রিশ বছর আগে যে হারিয়ে গেছে সে আবার ফিরে আসবে কেন? আমিই বা কেন তাকে প্রশ্রয় দেবো? অথচ আমার মন তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমি জানি এটা ঠিক না, কিন্তু মন তা মানছে না। হৃদয়ের আয়নায় ত্রিশ বছর আগের সুপ্ত স্মৃতির বারুদ ঝলসে উঠেছে। ত্রিশ বছর পরেও আমি যেন তার সেই উষ্ণ নিঃশ্বাস টের পাচ্ছি!
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। সে বসে আছে নারিন্দার ভূতের গলির শ্যাওলা ধরা একটা বাড়ির চিলেকোঠায়। তার নাম শান্ত। নামের মতো তার স্বভাবও শান্ত। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। মাথায় কোঁকড়ানো বাবরি চুল। চোখে ভারী ফ্রেমের চশমা। দৃষ্টি প্রখর। পরনে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি আর জিন্সের প্যান্ট।
সে খুব কম কথা বলে। তার ঠোঁটে ফুটে আছে নীরবতার স্বাক্ষর। সে খুব একটা হাসে না। কখনো হাসলে মুচকি হাসে। দাঁত দেখা যায় না। বেশিরভাগ মানুষের হাসিকান্না সরব। শান্তর হাসি এবং কান্না দুটোই নীরব।
পাঠকসঙ্গ
ইবরাহীম ওবায়েদ
ইবরাহীম ওবায়েদ
পাঠকসঙ্গ
ইবরাহীম ওবায়েদ
ইবরাহীম ওবায়েদ
ইবরাহীম ওবায়েদ